ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহর ছাড়ছেন নগরবাসী। বাস-ট্রেনে যে যেভাবে পারছেন, বাড়ির পথ ধরেছেন। ফলে ফাঁকা হতে শুরু করেছে খুলনা।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকাল শহর ছাড়তে থেকে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে গন্তব্যে যাওয়া তড়িঘড়ি সবার মধ্যে। যাত্রীদের কেউ কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে কাটছেন টিকিট। কেউ আবার আগেই টিকিট নিয়ে গাড়িতে ওঠার অপেক্ষায়। কেউ বা গাড়িতে বসে নিজের গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া অপেক্ষা করছেন।
বরিশালগামী বাসযাত্রী সানজিদা রহমান বলেন, আমি আমার ভাই-ভাবি সাথে খুলনাতে থাকি। কালকে ছুটি হওয়ার আজকে ভাই, ভাবি ও বাবুকে নিয়ে গ্রামে সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাচ্ছি। সাধারণত বছরের দু’টো সময় পরিবারের সবার সাথে দেখা হয়। তাই বেশিভাড়া বা গরমের কষ্ট উপেক্ষা করে বাড়িতে যাচ্ছি।
খুলনা-সাতক্ষিরা রোডের ড্রাইভার আবদুল কুদ্দুস বলেন, যাত্রীদের উপস্থিত অনেক বেশি। যার জন্য দশ মিনিট পর পর গাড়ি ছাড়ছে। সাধারণ প্রতিদিন যেখানে একটা টিপ দিতাম সেখানে এখন দুইটা বা আড়াইটা টিপ পাচ্ছি। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলে আশা করছি নিদিষ্ট সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারবো।
ঢাকা থেকে আসা ইনামুল বলেন, কালকে অফিস ছুটি হয়েছে। ঈদের সময় বাসে সিট পাবো কি না জানি না। তাই অনলাইনে টিকিট ছাড়া মাত্রই টিকিট কেটেছিলাম। প্রথমত দূরের রাস্তা আর দূঘটনা এড়াতে সবমিলিয়ে ট্রেনে আসা৷ আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ ভাবে পৌঁছেছি।
এজেন্ট কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা মো. ইমামুল বলেন, ঢাকা থেকে খুলনাগামী যাত্রীর চাপ বেড়েছে । খুলনা শহর থেকে খালি গাড়ি রাজধানীতে যেয়ে যাত্রী নিয়ে আসছে। টিকিট আগের দামেই আছে। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে বাস নির্দিষ্ট গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে।
স্টেশন মাস্টার মো. ফারুক হোসেন খুলনা গেজেটকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে খুলনা ছাড়তে শুরু করেছে সাধারণ যাত্রীরা। কালকে সকাল থেকে যাত্রীদের উপস্থিত দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহরে যাত্রীদের উপস্থিত অনেক বেশি। ঈদ উপলক্ষে খুলনাতে কোনো স্পেশাল ট্রেন চালু হয়নি। এখনো কোনো শিডিউল বিপর্যয়ে দেখা দেয়নি। আশা করি এবারের ঈদযাত্রা ভালো হবে।
ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট শরিফ বলেন, ঈদে ঘরেফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। ছুটি শুরু হওয়ায় মানুষ শহর আসছে এবং শহর থেকে যাচ্ছে । ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে আমরা আরও ফোর্স বাড়ানো হয়েছে। যার কারণে চাপ বাড়লেও আমরা চেষ্টা করবো সর্বোচ্চ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে। আর গতবারের ন্যায় এইবছর চাপ একটু কম হবে। কারণ আমাদের ফোর্স নিয়ন্ত্রণ করা এবং নতুন টেকনিক অবলম্বন করে আমরা চেষ্টা করছি নিযন্ত্রণে মধ্যে রাখতে। তবে যখন চাপ একটু হবে তখন আমাদের কৌশল অবলম্বন করে কাজ করতে হবে। আশা করি সমস্যা হবে না। সবার সহযোগিতায় ইনশাল্লাহ সবাই সহজভাবে নিজ গন্তব্য পৌঁছাতে পারবে।
খুলনা গেজেট/ টিএ